মালেকুল হকের ৫টি কবিতা

পৃথিবীতে মনতলা নামক একটি বাজার আছে

পৃথিবীতে মনতলা নামক একটি বাজার আছে
পনের ভাদ্র চৌদ্দশত তেরো সনে তথায় গেছলাম
পূর্ববঙ্গে মন নামক স্থানীয় একটি ফলের গাছও রয়েছে
সম্প্রতি এই প্রজাতির বৃক্ষ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
মনগাছকে শুদ্ধ বাঙলায় কী বলে জানি না
মনতলায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো
পৃথিবীতে অনেক কিছু আমি জানি না।

আমার পাড়ায় বেশদিন অচেনা লোকের

আমার পাড়ায় বেশদিন অচেনা লোকের কোলাহল বেড়ে গেছে
বিশেষত রাত্রি গভীর হলে
পাড়ার পথটি দক্ষিণমুখো হয়ে পূব দিকে বেঁকে গেছে
তথায় শুনেছি জোছনার হাট বসে
আমি কখনও ঐদিকে যাই নি, লোকে যে পথ দিয়ে
সবসময় চলাচল করে ঐ সমস্ত পথে নিজেকে স্থাপন করতে পারি না

এইভাবে প্রতিদিন লোকের পায়ের শব্দ, গুঞ্জন শুনি

ঘরের জানালা এবং পথটি পরষ্পর সম্পর্কিত তদুপরি
তথায় বসি পথ ও পথিকের সমীকরণ টানি

পৃথিবীতে নতুন পথ কেন যে তৈরি হচ্ছে না

গাছে গাছে পাখি ডাকে-

গাছে গাছে পাখি ডাকে-
মনে হয় সারা বছর সব প্রজাতির পাখি ডাকে না
যেমন ফাল্গুন ব্যতীত কোকিলের দেখা মিলে
অতি কদাচিৎ
মিডিয়াতে জ্যৈষ্ঠেও ফাল্গুন
কোকিলও ডাকে সবখানে

একটা নির্লিপ্ত তালগাছ

একটা নির্লিপ্ত তালগাছ নেমে এসেছে দেয়ালের পাশে-
কিছু নিস্তব্ধতা জড়ো যেন
আমি দেখলাম অনেকগুলো উপপাতার সমন্বয়ে একটি পাতা
আমার তুমুল ভালো লাগছে রাত্রির এই সময়টুকু
যদি পারতাম মুহূর্তগুলোকে জড়ো করে রাখতাম
এবং কোনো এক চেনা সুরে যদি কেউ ডাকে একদিন
কোন একদিন তালাপাতা রাত্রি নেমে আসে চোখের কোণে
কী যে ভালো হতো একথা লিখে ভালো লাগছে এখন।

একটি শালিকের ডাক লিখে রাখলাম

একটি শালিকের ডাক লিখে রাখলাম খাতায়
জোড়া শালিক উড়তে উড়তে গেলো অন্য কোথায়
পাখিটির চলে যাওয়া দেখে খুব বেদনা পেয়েছি
খোলা জানালায় বসে ভেবেছি আর
দেখেছি বেঞ্চিতে বসে দুটো শিশু খেলছে
ধরো তাহলে শিশুগুলো বয়স্ক হওয়ার পর
পাখি ধরা শিখবে
আর তাকে দেখার পর শালিক পাখি উড়ে গেছে বনে।

জহির হাসান

মালেকুল হক, কবি। জন্ম ১৯৭৪, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মঈনপুর গ্রামে। স্নাতক শেষ করে কর্মজীবনের শুরু। ছোটো কাগজ গন্ধম সম্পাদনা করেন। প্রকাশিত কবিতার বই: সমুদ্র গনিকা এবং হাওয়ার বাঁশি, তসবিহ ও রক্তবিন্দু, দিব্যোন্মাদ আয়না, বিনয়গুচ্ছ, Eco The Pillars of Nothingness, এবং Divine Cross Beneath the Gloomy Evening

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।