শিমুল মাহমুদ
‘তোমারে খায়া ফালাইতে চাইতেছি। ঠাইত মাইরালামু’। এই খায়েসটা হইল মাইনশের বহুত পুরানা খায়েশ। খাওয়াখাওয়ির অভিজ্ঞতা আপনের নাই, তো কী হইছে? না থাকলেও এইটা জারি আছে, এইটা বাস্তব। এই রকমের বাস্তবরে অমানবিক বলতেছেন? অথচ এই অমানবিকীকরণের চর্চাটাই হইল ইনফ্যাক্ট পারফেক্ট বাস্তব। অমানবিক বইলা কিচ্ছু নাই, ওইগুলা সুশীলগুলার শিখানো কৌশল। ধর্মবিশ্বাসের মতো তেলেসামতি জাদু। আপনের চৌদ্দ গুষ্ঠিরে বেয়াক্কেল বানায়া রাখনের ফুসমন্ত্র। এই ফুসমন্ত্রের ভিত্রে আমরা আমাদের ভাসায়া রাখছি। এই ভাসায়া রাখাটাই হইল জীবন। আপনে রাজি থাকেন কী না থাকেন কিচ্ছু যায় আসে না, জীবন ভাইসা থাকতেছে। বলতে চাইতেছি জীবনডারে রাক্ষসের আদলে ব্যাখ্যা করতে না চাইলেও বাস্তবটা হইল, ওই রাক্ষসজীবনটাই আসলে বাইচ্চা থাকা। ওই রাক্ষসটাই অভিজ্ঞতা হয়া আপনেরে আমারে নিয়া হ্াঁটতেছে। ওই রাক্ষসটার লাইগ্যাই, ওই খাইখাই খায়েশটার লাইগ্যাই আমরা কেমনে কেমনে হাঁটতে শিখতেছি।
আদতে আমরা কিছুই কল্পনা করতে পারি না। আমাদের গোটা জীবনের, হইতে পারে ওই জীবনগুলো প্রতœ-অভিজ্ঞতা আশ্রিত জীবন; এমনতর অব্যক্ত অভিজ্ঞতার ঝাঁপসাগুলা, ছাপগুলা, সে¥াকগুলা আমরা কল্পনা করতে পারি মাত্র; যা আসলে কল্পনা নয়, বাস্তব। বাস্তবগুলা ভাষায় বদলায় গিয়া কেমনে কেমনে অবাবাস্তব, যেইটারে পন্ডিতরা কইবার চায় অতিবাস্তব, এই বাস্তব-অতি বাস্তবের ভিত্রে কল্পনাগুলা ভ্যাবাচ্যাকা খাইতে থাকে। ভ্যাবাচ্যাকা থাইকা মুক্তি পাওনের লাইগা মানুষের যে ফোসফোসানি ওইগুলা হইল গিয়া স্পিচ, বচন, শুননভাষা। এই শুননভাষার রইছে মন্ত্রক্ষমতা, যেই ক্ষমতা লেখনভাষার সম্ভব হয়া উঠবার জন্য ছটফটাইলেও হয়া ওঠে না। কল্পনা বইলা আসলে কিচ্ছু নাই, কল্পনা হইল এই ছটফটানি থাইকা ফাইট্টা পরা স্পিচ। স্পিচগুলা ডাইরেক্ট এক্ট নাও করবার পারে, রূপক হয়া এইগুলা আপনারে পাকড়াও করবার পারে, প্রকাশ তাড়নার ভেক ধইরা কল্পনা আমাদের পাকড়াও কইরা ভাসায়া রাখবার চায়, যার লাইগা আমরা বাঁইচা থাকবার পারি, ফূর্তিফার্তা করবার পারি।
মইরা যাওয়া মানুষগুলারে নিয়া প্যাচাল তো পারতেই পারেন। এই প্যাচালগুলা হইল মইরা গিয়াও বাইচ্চা থাকনের খায়েশ। এই খায়েশগুলারে মমতা মাখায়া জড়ায়া রাখতে ভালোবাসি। এই খায়েশগুলা আসলে ভাইসা থাকা জীবনের জৈব-রূপক; বহুমাত্রিক। বাইচ্চা থাকা তাজা মানুষগুলা এই মইরা যাওয়া অধিবিদ্যার পেটের ভিত্রে বইসা হাসবার লাগছে। এই হাসিটা রহস্য দিয়া বুইঝা নিতে হয়। এই রকম বাঁচা-মরার ভিত্রে বইসা আমাদের বচনগুলা বুঝনবোধের, দেখনবোধের, শুননবোধের সবগুলা ডাইমেনশনরে আটকাইতে পারে না।
সেই জন্যই এতো রহস্য। যার জন্যে না-বুঝ রহস্যগুলা বাইচ্চা থাকা মানুষগুলারে পাকড়াও কইরা নাচাইতে থাকে। এই যে নাচন-কুদন এইগুলা হইল বাইচ্চা থাকা, ভালোবাসা নিয়া বাইচ্চা থাকার আকুতি। এই আকুতিগুলা মোটেও হ্যাংলামো না, বরং এইগুলাই আমাদের ক্যারেকটার, আমাদের খায়েশগুলাই আমাদের আইডেনটিটি। যার জন্য আমরা হ্যাংলামো কইরা বলতে পারি, দাদিআম্মার চুলের সুতায় ফুইট্টা আছে সময়। ঐশীধ্বনির ভিত্রে ফাইট্টা উঠবার লাগছে শস্যবীজ। পরিযায়ী পাখির পাখনাগুলা বহন কইরা নিয়া যাইতেছে শস্যবীজ; আর এই উইড়া যাওয়া বীজগুলার রইছে উদ্ভিদ হয়া জন্মানোর খায়েশ। এইভাবে একলগে মানুষ আর শস্যের খায়েশগুলা জাইগা আছে আকাশের নিচায়। আকাশ তোমারে কইতেছে, আকাশ, তুমি হইলা গিয়া আমার দুধবোন, একই মায়ের মাই চুইষা আমরা আছি হাওয়ায়। দুধবোন আকাশরে কখনো মরবার দেখতেছি না। আকাশের লগে আকাশের বগলে আমিও বাইচ্চা থাকবার চাইতেছি।
যারে আমরা কবি বইলা, নবী বইলা, শিল্পীটিল্পী বইলা, মানুষ বইলা ভালোবাসবার লাগছি, তো মানুষটা বাইচ্চা আছে নাকি ভাইস্যা আছে, এইটাও হইল গিয়া এক ধরণের ফায়সালাবিহীন বোধ, বলা যাইতে পারে ভাষাবোধ। এই ভাষাবোধ ব্যাকরণের বাক্যশৃঙ্খল, বানানশৃঙ্খলা নিয়া আউগায় না। কোন শব্দের বানান কেমন হইব, কেনই বা এই রকম হইব না, সাধু-চলিতের মিলমিশ জায়েজ কিনা এইসব গুরুচন্ডালি ব্যাপার স্যাপার, এইসব বানান-বাক্য-শৃঙ্খলার ভিত্রে ভাষা বাইচ্চা থাকে না। ভাষা বাইচ্চা থাকে মানুষের শুননবোধের ভিত্রে, দেখনবোধের ভিত্রে, কওনবোধের ভিত্রে, যেইগুলারে কেমনে কেমনে কবি-নবী-শিল্পীরা স্পিচ বইলা বিশেষ বানায়া দিতেছে। আসলে এই স্পিচ হইল গিয়া মানুষের চলনবলন, যেইগুলা কিনা হরহড়াইয়া চোখেমুখে ধ্বনি উগলায় দেয়। এই স্পিচের আবার রকমফের আছে, কেমনে কেমনে স্পিচগুলারে আলাদা কইরা বাণী বানায়া ফালায়া মানুষগুলা ফানা হয়া যায়, তখন ওইগুলা হয়া যাইতেছে আল্লার ভাষা। আসলে ভাষা হইল গিয়া রূপক কইরা বলতে গেলে আমরা এই রকম কইরা বলতেছি, ভাষা নিজেই হইল গিয়া ব্রহ্মা, অব্যক্ত। ভাষা কখনো মানুষের পুরাডা ব্যক্ত করতে পারে না। আর সেই ভাষাটা যদি হয়া যায় পালিশ করা ভাষা, মানভাষা, তাইলে তো হইছে, তাইলে ওই ভাষা লয়া আমজনতা মুশকিলের ভিত্রে হান্দায় যায়। শুধু হান্দাতেই থাহে, নিজেরে আর ফুটাইতে পারে না, ব্যক্ত করবার পারে না, মানভাষার কাছে মানুষ হয়া যায় দাস, দাস স্বভাবের ভিত্রে ডুইবা যাইতে থাকি আমরা।
ওই মানভাষা দাস-স্বভাবের মানুষগুলার দিকে তাকায়া চোখ রাঙায়, শাসন করে, নিজে কর্তার ভূমিকায় থাইকা বুঝায়া দিবার চায়, তোমরা আমজনতা হইলা গিয়া দাস, দাসরা হয়া থাকবে মূর্খ। এইভাবে সোজাসাপটা বুঝাইয়া দেওনের লাইগা ওইসব মানভাষাগুলান হইল সংস্কৃতর শিকলে বাইন্ধা রাখা শাসক ভাষা, যেইগুলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামক কলকারখানায় তৈয়ার হয়া আসতেছে। এই মানভাষা বাইচ্চা থাকা জনগণের মুখের কথাগুলারে, স্বভাবগতভাবে আউগাইয়া যাওয়া ভাষারে লোকভাষা বইলা চোখ ঠাউরাইতেছে। আর আমরা ভদ্দরলোক হইবার খায়েশে শিক্ষালয়গুলাতে যেই যেই ভাবে আর্টিফিশিয়াল স্টাইল চর্চা করা হইতেছে সেইসেই ভাবে নিজেগোর স¥ার্ট বানাইবার লাইগা দৌড়ঝাপ করবার লাগছি।
আপনারা যেইগুলারে গালিগালাজ বলতেছেন, যেইগুলারে স্ল্যাং বলতেছেন আলটিমেটলি ওইগুলাই জনগণের সচল ভাষা। যে কোন ভাষাকে বাইচ্চা থাকনের লাইগা ভাষার একটা স্ট্রং বৈশিষ্ট্য হইল স্ল্যাঙ লোকজ প্রাত্যহিক প্রচল স্ফূর্ত গতিশীলতা। এইগুলারে ভাষা থাইকা ক্যান খারিজ করতে হইব, আলাদা কইরা রাখতে হইব? আর প্রকৃত বাস্তবতায় এইটা কি সম্ভব? গণমানুষের ভাষা সমাজমনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রিত, ব্যক্তিমানুষের ভাষাও শুধু ওই ব্যক্তির মানসগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রিত নয়, এর সাথেও সংযুক্ত রয়েছে সমাজমনস্তত্ত্ব। আপনের সুশীল মুখোশ দিয়া আপনে আমি ভাষার এই গতিশীলতাকে আটকায়া রাখতে পারবো না। এইটা চাপায়া দেওয়া ভদ্দরলোকি চেষ্টা মাত্র, যা কিনা উপদেশ নৈতিকতার গালভরা আত্মতুষ্টিতে আর্টিফিশিয়াল। ওই কাগুজে আর্টিফিশিয়াল ব্যাকরণসিদ্ধ আত্মতুষ্টি সচল ভাষার ধর্ম হইতে পারবে না। পাশাপাশি এই অ্যাকাডেমিক আত্মতুষ্টির লগে জাস্ট পুরুষবাদি আধিপত্য জড়ায়া প্যাচায়া রইছে? যার জন্য আমরা মনে করতেছি স্ল্যাং হইল একচাটিয়া পুরুষের ভাষা। যাই হোক শিক্ষিত সমাজের লজ্জার দেখনদারিটা বেশি। সুশীলগণ লজ্জা পায়া উপদেশ বয়ান করতেছেন। এই উপদেশগুলাও স্ল্যাং। স্ল্যাঙ এই জন্য যে আপনে ভাষারাজনীতি দিয়া ভাষাআধিপাত্য দিয়া ব্যক্তির চরিত্র নিয়া ঘাটাঘাটি করতেছেন, নারীর চরিত্র হনন করতেছেন, নারীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়া প্রশ্ন উঠাইতেছেন, এই মানষিকতাও স্ল্যাং বটে। আমজনতা, প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে কথিত অশিক্ষিতজন, লোকসমাজ, শিক্ষিত পুরুষসমাজ আঞ্চলিক স্ল্যাং ব্যবহার করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা হইতেছে না, নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রেও সমস্যা হইতেছে না। মাগার নারী যখন প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে শিক্ষিতজন হয়া যান, পুরুষের দৃষ্টিতে তিনি তখনো নারীই থাইকা যাইতেছেন, ওই শিক্ষিত নারীর লাইগ্যা গালিগালাজগুলা হারাম হয়া যাইতেছে, শিক্ষকের জন্য হইতেছে নাজায়েজ। এইটা আমাদের সমাজমনস্তাত্ত্বিক ট্যাবু। এই ক্ষেত্রে ভাষারে ট্যাবুর মইধ্যে আটকায়া আলটিমেটলি পুরুষনিয়ন্ত্রিত আধিপত্যকেই জায়েজ করা হইতেছে। ভাষাকে নারী অথবা পুরুষ বানায়া রাইখেন না, জেন্ডারের মইধ্যে আটকায়া ফায়দা উঠাইবার কায়দাকানুনগুলা থাইকা ভাষারে মুক্ত কইরা দেন, আখেরে লাভ হইবো, মানুশরে মানুশের মর্যাদায় নিয়া যাইতে লিঙ্গনিরপেক্ষ পেশানিরপেক্ষ ভাষাকে আউগাইয়া দেওনের সুযোগ তৈয়ার হইব।
বইলা রাখন জরুরি, আমরা আমজনতা ভাষানিয়ন্ত্রিত এইসব আর্টিফিশিয়াল স¥ার্ট পালিশমারা দাদাগিরিমার্কা চলনবলনগুলারে খবিশ মনে করতেছি, বেহুদা বিপদজনক আর বেদরকারি মনে করতেছি, যদিও আমরা এইগুলার ভিত্রেই হান্দায় আছি। এহনতক আমরা যেইগুলারে শিল্পটিল্প বইলা আসতেছি এইগুলা হইল এইভাবে তৈয়ার করা লোকশাসানো, আমজনতাকে ছোটলোক বইলা ভাবতে শিখানোর, বিশ্বাস করতে পারানোর কায়দাকৌশল। এই রকম কায়দাকৌশলগুলা জড়ায়া পেচাইয়া নিয়া আমরা বাইচ্চা থাকনের লড়াই জারি রাখছি। এই জারি রাখনের প্রকাশটাই, এই বাচা-মরার মইধ্যে ভাইস্যা থাকনের প্রকাশটাই হইল গিয়া ভাষা, যেইগুলার কোন ব্যাকরণ থাকতে নাই। মানুশ এবং মাইনশের ভাষা একলগে ব্যকরণ না মাইনা উদলা হইতে পারলে মনে লয় এক ধরনের স্বাধীন ভাব উদলা হয়, ফূর্তি উদলা হয়, মুই যেমন যেমন মানু তেমন তেমন নিজেরে উদলা করণের সুযোগ উদলা হয়। নিজেরে হীনদীন আনকালচারড ভাবতেছি, বাট এই বোকাচোদা মার্কা ভাবনাগুলারে সহজ জীবন বইলা, পারফেক্ট ভাইবা এক্ট করনের খায়েশ জারি হয়।
তো সেই খায়েশ জারি করনের সুযোগ প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র শিক্ষিতজন আপনারে দিবার চায় না। কারণ, তখন আপনে আর অনুগত দাস থাকবার চায়বেন নানে, আপনের ভিত্রে তখন অহম চাগায় উঠবেনে। তো ভদ্দলোকগুলান তহন কাদেরকে ভদ্দলোকি দেখাবেনে? তাইতে মানভাষারে স্বাধীন করণের সুযোগ না দিবার চায় খবরদারি ফলানো মানুশগুলা। সুযোগ পাইলে আপনেও এই রকম এক্ট করতেছেন। এইগুলা হইল আধুনিক জীবনের ট্যাবু। ট্যাবুগুলান মাইনশেরে আপনভোলা হইতে দিবার চায়না। আমরাও আমাদের ঠাঁট বাট চাট শিক্ষা রুচি কালচার দিয়া আমাদের আলাভোলা স্বাধীন থাকনের সুযোগগুলারে গলা চিইপা মাইরা ফালাইতে চাই, নিজেদের প্রকৃত চেহারাগুলারে লুকায়া ফালায় দিয়া মানভাষার মতো চকচকা আর্টিফিশিয়াল জীবনগুলারে আউগাইয়া রাখবার চাই। এইগুলা হইল গিয়া ঠাইত মাইরালামুর মতো খায়েশ, খায়া ফালামুর মতো চাওয়া। এই রকম খাইদাইয়ের মইধ্যে ভাষা আউগাইয়া যায়। এই রকম একটা অবস্থার ভিত্রে লুকায়া রইছে মাইনশের বোধ, ক্যারেকটার। যেই ক্যারেক্টারগুলা স্পিচ হয়া উঠবার খায়েশে টইট¤¦ুর। মাগার বেফায়সালায় আটকায়া থাকে।
ভাষা বলতে আমরা এই রকম রূপক-আশ্রিত বেফায়সালা-আক্রান্ত পাকড়াও হওয়া বাইচ্চা থাকা বাস্তবরে বুঝতেছি। যেই বাস্তবতাগুলার ভিত্রে হান্দায় থাকতেছে অতীত, লুকায়া থাকতেছে আগুন জ্বালায়া দিবার যোগানদার লাকড়ি, খড়কুটা। আর যখন খড়কুটার ভিত্রে আগুনগুলা বাইচ্চা উঠবার লাগলো তখন দেখবার পাইতেছি, নদীর ভিত্রে জোছনাখালাদের পাল দেয়া মা-ঘোড়া হাঁটতেছে। আমি মাদিঘোড়ার পিছে পিছে উড়বার লাগছি। আর একটু একটু কইরা জোছনাখালারে ছুঁইয়া দেখতেছি। মাছগুলান বেহুদা ফাল পাড়তেছে। আমি মাছগুলারে স্বপ্নে দেখছিলাম কিনা মনে করবার পারতেছিলাম না। আমি তখন জোছনাখালার মাই চুষতেছিলাম, আর এইগুলান ভাবতে থাকলে একদিন হাচা হাচাই আমাদের টিনের চালায় জোছনাখালার মাইচুয়ানো দুধ গড়ায়া পড়বার লাগছে। তখন আমি ফিকশন ননফিকশনের ভিত্রে হান্দায় যাইতেছি। আন্দারে বাদুড়গুলান গাছগুলার ডালপালাতে ঝুইলা পড়তেছে, সেই বাদুড়গুলার শইল ধইরা ঝুইলা দুইলা ফূর্তি ফার্তায় মাইতা উঠবার লাগছে জ্বিনের বাচ্চাগুলান। তখন জোছনাখালারে একজন ভূত ঝাড়ানো ওঝার লগে দেখা করানোর লাইগা মাঠ প্রান্তর ভাইঙ্গা আমরা হাঁটবার লাগছি। আকাশ থাইকা আকাশের প্রান্ত থাইকা ভাইসা আসবার লাগছে মন্ত্র, লালন ফকিরের স্পিচ। ওইগুলারে বলা হইতেছে ভাষা। ভাষা মানে গান। আর গান হইল গিয়া ফিকশনের আদি রূপ। যেইগুলা কিনা আমাদের টিনের চালায় জোছনাখালার মাইয়ের দুধ চোয়াইয়া গড়াইবার লাগছিল। এই গড়াইয়া নামা জোছনার ভিত্রে তাকায়া দেখবার লাগছি আমার পয়লা লেখন, মাগিজীবন নিয়ে একখান প্যাচাল। অবশ্য এর আগে, হইতে পারে পরে লিখছিলাম এক টুকরা ছড়া, যেইটা কোথাও ছাপাইতে দেই নাই। শিরোনাম দিছিলাম ‘স্যান্ডেল’। যেইটা ছিল একজন কিশোরের সহজাত ন্যায়-অন্যায় বোধ দিয়া মোড়ানো বড়োলোক আর ছোটলোকগুলানের ভিত্রে তফাৎ নিয়া তেলাতেলা আবেগ, ক্ষোভ, খায়েশ। এই আবেগগুলার লাইগা, এই খায়েশগুলার লাইগা এত বছর পর বুঝবার লাগছি মাইনশের মইরা যাওনটা হইল দুইনার বুকে হাজার রকমের অপরাধের মইধ্যে একটা গবেট মার্কা অপরাধ। আর কেমনে কেমনে মইরা যাওনের পিছনটায় যেই ফ্যাক্টগুলা কাজ করতেছে সেইগুলারে একলগে বলা যাইতে পারে ইবলিশ। ইবলিশ দ্য গ্রেট।
পরিচিতি
শিমুল মাহমুদ, জন্ম: ১৯৬৭, কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক । পেশা: অধ্যাপক , বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ।






Users Today : 3
Users Yesterday : 3
Users Last 7 days : 12
Users Last 30 days : 54
Users This Month : 11
Users This Year : 65
Total Users : 2071
Views Today : 4
Views Yesterday : 4
Views Last 7 days : 17
Views Last 30 days : 65
Views This Month : 16
Views This Year : 78
Total views : 2928
Who's Online : 0
পুরোপুরি মানকথ্য বাংলায় লেখা প্রবন্ধটি পড়ে খুব আনন্দ পাইলাম। সুন্দর, ভাষাকে শাসন করা মানে পশু জবাইয়ের পর রক্তের ঢেউ ওটা।