বাঙালমেলের কথা

চিন্তায় বাঙালমেলের সূচনা হয়েছিলো প্রায় দুইদশক আগে, উপনিবেশের প্রভাব চিহ্নিত করা এবং উত্তরউপনিবেশি দৃষ্টিকোণ থেকে সজাগ চেষ্টায় তা কাটিয়ে উঠার ভাবনার অংশ হিসাবে। গত বছর দুয়েক ধরে  আমরা সংগঠিত পথে কাজ শুরু করেছি।  এরপর থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ফেইসবুকে বিভিন্ন ইস্যুতে উপনিবেশের প্রভাব, উত্তরউপনিবেশবাদ (Postcolonialism), উত্তরউপনিবেশিকতা(Postcoloniality), বিউপনিবেশায়ন(Decolonization) ইত্যাদি ঘিরে বিতর্ক হচ্ছে। সামগ্রিক ধারণা না থাকার কারণে কেউ কেউ অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কের সূচনা করছেন বা মনগড়া মতামত/সিদ্ধান্ত হাজির করছেন। এসব কারণে এবং আগ্রহী পাঠকদের কৌতুহল মিটানোর জন্য আমরা যারা নিজেদেরকে উপনিবেশ ও নয়াসাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতাকে ফরজ কাজ বলে মনে করি এবং উত্তরউপনিবেশি মানসিকতা ও প্রতিরোধ সংগ্রামে বিশ্বাস করে বাঙালমেলকে দেশজ সৃষ্টিশীলতার আদত মেলে পরিণত করতে চাই তারা আমাদের অবস্থান পরিস্কার করা দরকারী মনে করছি। আমাদের কথা:

(১) ইউরোপের কয়েকটি রাষ্ট্র ষোল শতক থেকে শুরু করে গত শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের বহু দেশ দখল করে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে, সেসব দেশের মানুষদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন, বিভাজন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার, প্রভৃতি তৎপরতার মাধ্যমে বহুকাল ধরে উপনিবেশ টিকিয়ে রাখতে সমর্থ হয় এবং সেইসব দেশের সম্পদ লুট করে নিজের দেশে নিয়ে যায়; এভাবে সূচিত হয় ইউরোপের সমৃদ্ধি। ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সম্ভব হয়েছিলো ভারত থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া সম্পদে। এরা উপনিবেশ টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে উপনিবেশিত মানুষের সায় আদায়ের জন্য তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য , সংস্কৃতি, সাহিত্য ধ্বংস করে উপস্থাপন করে তাদের নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি-জ্ঞান। ফলে উপনিবেশের মানুষরা ধারণা করে উপনিবেশক শক্তিই সব দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। এটি পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের উপর ঘটে যাওয়া এ এক বিরাট অপরাধ। উপনিবেশগুলো স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পরও জনগোষ্ঠীর মনোজগতে রয়ে গেছে উপনিবেশী শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রভাব এবং সে কারণে তারা এখনো প্রাক্তন উপনিবেশক শক্তি এবং সেইসূত্রে সম্পর্কিত জাতিগুলোকেই জ্ঞানবিজ্ঞানে উন্নততর মনে করে। এই পরিস্থিতি খুলে দিয়েছে বিশ্বায়নের নামে নয়া-উপনিবেশি আগ্রাসনের পথ, যে উপায়ে কোন দেশ দখল না করেও তার মগজ দখলে রেখে অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চালানো সম্ভব। 

(২) উপনিবেশের ঐসব প্রভাব চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠার জন্য নিজে সচেতন হওয়া এবং সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি উত্তরউপনিবেশবাদ বা উত্তরউপনিবেশিকতা। এখানে উত্তর কথাটির দুরকম অর্থ-ব্যঞ্জনা রয়েছে। এক: উত্তর বুঝায় বিষয়টি উপনিবেশ স্বাধীন হওয়ার পরের ব্যাপার, দুই- এ হলো স্বাধীন হওয়ার পরেও উপনিবেশী শক্তির জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য কাটিয়ে উঠা অর্থে উত্তরণ বা উপনিবেশী প্রভাবকে উৎরে যাওয়া অর্থে।

(৩) উপনিবেশের প্রভাব কাটিয়ে উঠার তিনটে প্রক্রিয়া আমরা চিহ্নিত করেছি।  (ক): এ বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং ভাবাধিপত্য দূর করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উপনিবেশের নেতিবাচক প্রভাবগুলো চিহ্নিত করা (খ) কা‌র্যকর উপায়ে প্রভাব দূর করা, যাকে বলা হয় বিউপনিবেশায়ন। (আমরা লক্ষ্য করেছি অনেকে না বুঝে বিউপনিবেশায়ন কথাটি নিয়েও তর্ক তুলেন, এই বলে যে, উপনিবেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর বিউপনিবেশায়ন কথাটি প্রযোজ্য নয়। আসলে তারা জানেন না বা ভেবেও দেখেন না বিউপনিবেশায়নের দুটো ধাপ: এক-রাজনৈতিক বিউপনিবেশায়ন অর্থাৎ স্বাধীনতা অর্জন, দুই- উপনিবেশের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব দূর করার জন্য বিউপনিবেশায়ন। দ্বিতীয় লক্ষ অর্জনের কাজটিই দুরূহ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।) (গ) সঠিক বিউনিবেশায়নের মধ্য দিয়ে অর্জিত আধিপত্যমুক্ত জ্ঞানচর্চার পথে, বিশ্বায়ন ও নয়াউপনিবেশি আধিপত্যের পটভূমিতে, নিজ দেশ ও জাতির সামগ্রিক গতিপথ ঠিক করা। উল্লেখ্য যে আমরা উপনবেশের প্রভাব জ্ঞানচর্চার সকলে ক্ষেত্রেই পড়েছে, তাই বিউপনিবেশায়নও সকল ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। আমরা প্রথমাবস্থায় কেবল শিল্পসাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার ক্ষেত্রেই আমাদের তৎপরতা সীমিত রাখবো।

(৪) পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। সকল প্রাক্তন উপনিবেশের ক্ষেত্রে্ই উপনিবেশের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়ে গেছে। তাই তা দূর করার প্রয়োজনীয়তাও রয়ে গেছে। যেমন আফ্রিকার কোন কোন দেশে জনগোষ্ঠীর ভাষাকে একেবারে ধ্বংস করে উপনিবেশকের ভাষা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সব দেশ চাপিয়ে দেয়া ভাষাকে তাড়িয়ে নিজের ভাষা পুন:প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাবে।  আমরা ভাষা হারাইনি, হয়তো আমাদের ভাষা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তাই আমাদের কাজ হবে সেই প্রভাব কাটিয়ে উঠা। এর অর্থ হলো উপনিবেশি প্রভাব ও উত্তরউনিবেশিকতা সকল প্রাক্তন উপনিবেশেরই ব্যাপার। অর্থাৎ উত্তরউপনিবেশিকতা চিন্তার ভিত্তিগত দিক থেকে এক ও বৈশ্বিক। দেশভেদে প্রভাবের ধরণ ও বিউপনিবেশায়নের  উপায় ভিন্ন হতে পারে।

(৫) বিশ্বায়নের নামে যা উপস্থাপন করা হয়েছে তা আসলে নয়া-উপনিবেশী আগ্রাসনের কারণে বিশ্বায়ন হয়ে উঠছে না, যা হচ্ছে তা হলো উন্নত দেশগুলো কর্তৃক উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোকে শর্ত ও ঋণের বেড়াজালে আটকে উন্নত বিশ্বের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করা। উন্নত দেশের পণ্য ও সেবা বিনা বাধায় উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে প্রবেশ করতে দিতে হয়, কিন্ত মানবিচার ও অন্যান্য অজুহাত তুলে অনুন্নত দেশের পণ্য ও সেবা উন্নত দেশে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা । বিশ্বায়নের বড় একটা ইস্যু শ্রমের অবাধ যাতায়ত হচ্ছে না। আমরা মনে করি এ সত্ত্বেও যারা বিশ্বায়নের অজুহাত তুলে বিউপনিবেশায়ন অপ্রয়োজনীয় বিষয় বলেন তারা হয় এ বিষয়ে অজ্ঞান অথবা নয়া-উপনিবেশের স্বেচ্ছাশ্রমী মনোদাস।

(৬) আমরা লক্ষ্য করেছি উত্তরউপনিবেশিকতার তাত্ত্বিক আলোচনায় সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে রবীন্দ্র-নজরুল বিতর্ক সামনে নিয়ে আসা এই বলে যে, রবীন্দ্রনাথ  উপনিবেশের বিরোধিতা করেছিলেন কিনা, নজরুল কি করেছিলেন, এইসব। উত্তরউপনিবেশবাদের তাত্ত্বিক পরিসরে রবীন্দ্র নজরুল প্রসঙ্গ অপ্রাসঙ্গিক। বরং উত্তরউপনিবেশী দৃষ্টিকোণ থেকে সাহিত্য বিচারের প্রসঙ্গ এলে যে কারো সাহিত্য এ দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়িত হতে পারে। এ সত্ত্বেও যারা সে প্রসঙ্গ তুলেন আমাদের সন্দেহ তারা সাম্প্রদায়িক আবেগ মিটানোর জন্য উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে বিষয়টিকে রবীন্দ্র-নজরুল বিতর্কের দিকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে চান। উত্তরউপনিবেশবাদ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কারোরই তত্ত্ব নয়, এটি উপনিবেশের নির্যাতিত মানুষের তত্ত্ব, হোক সে মুসলিম বা বৌদ্ধ বা ধর্মহীন। কাজেই বাইরে তাথকথিত প্রগতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার লেবাস নিয়ে যারা ‍উত্তরউপনিবেশিকতার তাত্ত্বিক ব্যাপ্তিতে রবীন্দ্র-নজরুল বিতর্ক নিয়ে আসেন আমরা বুঝে যাব তারা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ নিয়ে এ প্রসঙ্গ সামনে আনার চেষ্টা করছেন।

(৭) কেউ কেউ উত্তরউপনিবেশবাদকে উত্তরাধুনিকতার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। উত্তরাধুনিকতা হলো আধুনিকতার সমালোচনা। আধুনিকতা ইউরোপে উদ্ভুত। দীর্ঘকাল ধরে আধুনিক শিল্প সাহিত্যে ইউরোপের প্রাধান্য বজায় ছিলো। শিল্প-সাহিত্য-চিন্তাচর্র্চায় ইউরোপের প্রাধান্য খর্ব করার লক্ষ্যে উদ্ভুত ভাবনাভঙ্গি হলো উত্তরাধুনিকতা। তাই ইউরোকেন্দ্রিকতার বিরোধিতা উত্তরাধুনিকতার একটা অন্যতম মূল রোখ। এর লক্ষ্য শিল্প-সাহিত্য-চিন্তাচর্চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং সারা পৃথিবীতে সে আধিপত্য ছড়িয়ে দেয়া। এর সাথে উত্তর-উপনিবেশবাদের কোন সম্পর্ক নাই, বরং বিরোধ আছে যেহেতু তা শেষ পর্যন্ত আমেরিকান সাংস্কৃতিক আধিপত্যেরই পথ খুলে দেয়। ‍উত্তরাধুনিকতা উপনিবেশের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে কিছু বলে না, তা থেকে মুক্তির প্রসঙ্গও তুলে না।

(৮)কেউ কেউ উত্তরাধুনিকতার বাংলাদেশী সংস্কেরণ বলে একটা কিছু জাহির করতে চান। উত্তরাধুনিকতার বাংলাদেশী সংস্করণ কথাটিই একটি উ্দ্ভট ধারণা, কেননা এটি চরমার্থিক চিন্তাভঙ্গি, যেমন বৌদ্ধধর্মের ইসলামী সংস্করণ হতে পারে না বা ডারউনিজমের খ্রিস্টীয় সংস্করণ হতে পারে না।    

(৮) উপনিবেশী শক্তি আমাদের জ্ঞানজগত ও শিল্প-সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব রেখে গেছে, তা এখনো জারি আছে, তাই তা কাটিয়ে উঠতে হবে–এইটুকু যারা বিশ্বাস করেন আমরা তাদেরকেই আমাদের মেলে স্বাগত জানাই। উত্তরউপনিবেশবাদের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন যেকোন মতবাদ/বিশ্বাসে সক্রিয় যে কেউ-ও আমাদের সঙ্গী হতে পারেন।  

(৯) এই লক্ষ্যে আমরা ২০০১ সাল থেকে কাজ করে আসছি। প্রথমে বিচ্ছিন্নভাবে লেখালেখি চলছিলো উত্তরে-উপনিবেশবাদের পরিচয় ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য ধারণা নিয়ে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তাত্ত্বিক আলোচনা নিয়ে ফয়েজ আলমের লেখা উত্তরউপনিবেশী মন বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সবার আলোচনায় চলে আসে এবং অনেকের মধ্যে সচেতনতা দেখা দেয়। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেখা যায় উপনিবেশী প্রভাব চিহ্নিত করা এবং তা কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে উঠার চেষ্টা।  এখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান, সরকারের প্রশাসন বিভাগে কর্মরত  সিফাত উদ্দিন, ব্লগার ও লেখক পারভেজ আলম, কবি রুদ্র শায়খসহ বেশ কিছু তরুণ লেখকের উদ্যোগে এ বিষয়ে সেমিনার-অলোচনা সভা, পত্রপত্রিকা প্রকাশ ইত্যাদি চলতে থাকে এসব তৎপরতার কেন্দ্রীয় উদ্দীপণা হিসাবে কাজ করে এডওয়ার্ড সাইদের ‘অরিয়েন্টালিজম’, ফ্রাঞ্জ ফানোর, ‘ব্ল্যাক স্কিন হোয়াইট মাস্ক’, ফয়েজ আলমের ‘উত্তর-উপনিবেশী মন’সহ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় লেখকদের কিছু নির্বাচিত বইপত্র। ২০১১ সালে    ‘বাঙালমেল’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়,  পারভেজ আলমের কারিগরি সহায়তায় ফেইসবুকে একটি গ্রুপও খোলা হয়। কিন্তু নানা কারণে খুব একটা কাজকর্ম করা যায় নাই।

আমরা এখন নতুন উদ্যোগে কাজ ‍শুরু করেছি। দোসরা ফাল্গুন ১৪২৮ থেকে বাঙালমেল নামে একটি ওয়েব পোর্টাল প্রকাশিত হচ্ছে যাতে এ সংক্রান্ত লেখালেখি প্রকাশিত হবে। বাঙালমেলের পত্রিকা নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশের পরামর্শ আছে নির্বাচিত লেখাজোখা নিয়ে। যার চিন্তা ও তৎপরতা আমাদের নীতি ও তৎপরতার সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন যে কেউ আমাদের ভাসানপত্র এবং পত্রিকায় লেখার জন্য সমাদৃত হবেন। আর যারা আমাদের চিন্তা ও নীতির সাথে একাত্ম বোধ করেন  এবং তৎপরতায় অংশ গ্রহণ করতে চান তারা বাঙালমেলের শরীক গণ্য হবেন। বাংলাদেশ যেমন, তেমনি বাংলাভাষাও আমাদের দেশ, আমাদের  প্রতিদিনের বাস আর মনোজাগতিক বেড়ে উঠার জায়গাজমি।  হাজার বছরের বহমানতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রতি অনুগত আমরা। আন্তর্জাতিকতার প্রশ্নে আমরা ধর্ম-বর্ণ-জাতি-ভাষা নির্বিশেষে সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাসী; উপনিবেশের প্রভাব কাটিয়ে উঠে উত্তরউপনিবেশি দৃষ্টিকোন থেকে আন্তর্জাতিকতা, বিশ্বায়ন, সাংস্কৃতিক রাজনীতি, এবং দেশজ ঐতিহ্যের পটভূমিতে আত্মপরিচয়ের বিষয়গুলো বুঝে নিয়ে আমরা  বিশ^ব্যাপী মানবের আগামির দিকে পথচলার সাথে পা মিলাতে চাই। সকল ধরণের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আমরা। তাই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর যে কোনো ধরণের আধিপত্য রুখে দিতেও আমরা তৈরি।  দেশজ ভাব, চিন্তা, ভাষা ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সকল মানুষকে আমরা আমাদের চলার পথের সঙ্গী করে নিতে চাই। হাজার বছরের ঐতিহ্য ও পরম্পরায় সমৃদ্ধ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে বিশ^স্ত ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি  নির্বিশেষে সকল বাঙালির এক দিল এক মন হওয়ার জায়গা `বাঙালমেল’।